দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ কত? জানুন এখানে!
দাঁতের সমস্যা ও সমাধান

দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ কত? জানুন এখানে!

Published: 15 Jan, 2026 Updated: 18 Apr, 2026 Admin 186 views
FB WA

দাঁতের হাসি সুন্দর করতে চান? ভাবছেন দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ কত? দাঁত সোজা করার জন্য ব্রেস এখন বেশ জনপ্রিয়। সুন্দর, ঝকঝকে দাঁত কে না চায়, বলুন? কিন্তু ব্রেস লাগানোর আগে এর খরচ সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা দরকার। চলুন, জেনে নিই বাংলাদেশে দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ কেমন হতে পারে।

দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ: একটা ধারণা

দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ বিভিন্ন কারণে ভিন্ন হতে পারে। আপনার দাঁতের অবস্থা, আপনি কোন ধরনের ব্রেস বেছে নিচ্ছেন, কোথায় চিকিৎসা করাচ্ছেন – এসব কিছুই খরচের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত, বাংলাদেশে দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ ৪০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই খরচের মধ্যে ব্রেসের ধরন, আপনার দাঁতের অবস্থা এবং ডাক্তারের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ব্রেসের প্রকারভেদ ও খরচ

বিভিন্ন ধরনের ব্রেস পাওয়া যায়, আর এদের দামও ভিন্ন ভিন্ন। আপনার জন্য কোন ব্রেসটি ভালো, তা আপনার দাঁতের অবস্থা এবং আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে। আসুন, বিভিন্ন প্রকার ব্রেস ও তাদের খরচ সম্পর্কে জেনে নেই:

মেটাল ব্রেস

মেটাল ব্রেস হলো সবচেয়ে পরিচিত ব্রেস। এটি দেখতে ধাতব বা মেটালের মতো। অন্য ব্রেসের চেয়ে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশে মেটাল ব্রেস লাগানোর খরচ ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যারা সাশ্রয়ী মূল্যে ব্রেস লাগাতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।

সিরামিক ব্রেস

সিরামিক ব্রেস দেখতে প্রায় মেটাল ব্রেসের মতোই, তবে এটি সাদা রঙের হওয়ায় দাঁতের সাথে সহজে মিশে যায়। তাই এটি মেটাল ব্রেসের চেয়ে কিছুটা বেশি জনপ্রিয়। সিরামিক ব্রেস লাগানোর খরচ ৬০,০০০ থেকে ১.২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদি আপনি চান আপনার ব্রেস তেমন একটা চোখে না পড়ুক, তাহলে সিরামিক ব্রেস আপনার জন্য ভালো পছন্দ হতে পারে।

ইনভিসালাইন (অদৃশ্য অ্যালাইনার)

ইনভিসালাইন হলো আধুনিক ব্রেস। এটি প্রায় দেখাই যায় না। এই ব্রেসগুলো স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, যা আপনার দাঁতের ওপর ফিট হয়ে থাকে। ইনভিসালাইন ব্রেস লাগানোর খরচ ১.৫ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যারা ব্রেস লাগাতে চান কিন্তু চান না যে কেউ সেটা সহজে বুঝতে পারুক, তাদের জন্য ইনভিসালাইন খুব ভালো একটি অপশন।

খরচের একটা তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

ব্রেসের ধরন আনুমানিক খরচ (টাকা)
মেটাল ব্রেস ৪০,০০০ – ৭০,০০০
সিরামিক ব্রেস ৬০,০০০ – ১.২ লাখ
ইনভিসালাইন ১.৫ – ৪ লাখ

অন্যান্যান্য ব্রেস

এছাড়াও আরো কিছু ব্রেস রয়েছে, যেমন – ফরচুন ডেন্টাল-এর সাধারণ ব্রেসের খরচ ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

খরচের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো

দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হলো:

দাঁতের অবস্থা

আপনার দাঁতের অবস্থা কেমন, তার ওপর ব্রেসের খরচ নির্ভর করে। যদি আপনার দাঁত বেশি বাঁকা থাকে বা জটিল কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে ব্রেস লাগানোর খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। কারণ, সেক্ষেত্রে ডাক্তারকে বেশি সময় দিতে হয় এবং বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দাঁতের সমস্যার মাত্রা অনুসারে খরচ কম বা বেশি হতে পারে।

চোয়ালের সংখ্যা

একটি চোয়ালে ব্রেস লাগাবেন নাকি দুটি চোয়ালে, তার ওপরও খরচ নির্ভর করে। সাধারণত, একটি চোয়ালে ব্রেস লাগানোর খরচ ৫০,০০০ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর যদি দুটি চোয়ালেই ব্রেস লাগাতে হয়, তাহলে খরচ ১ লাখ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কারণ, দুটি চোয়ালে ব্রেস লাগাতে বেশি সময় এবং বেশি উপাদানের প্রয়োজন হয়। এমনকি যদি আপনার একটি-দুটি দাঁত বাঁকা থাকে, সেক্ষেত্রেও সব দাঁতেই ব্রেস লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে।

ক্লিনিকেরLocation বা স্থান

ক্লিনিকের Location বা স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঢাকার গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি বা উত্তরার মতো এলাকাগুলোতে ব্রেস লাগানোর খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, মিরপুর, বাড্ডা বা যাত্রাবাড়ীর মতো এলাকাগুলোতে খরচ কিছুটা কম হতে পারে। এর কারণ হলো, এলাকাভেদে ক্লিনিকের ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ ভিন্ন হয়ে থাকে।

ডাক্তারের অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা সাধারণত বেশি ফি নিয়ে থাকেন। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার দাঁতের সমস্যা ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন। তাই, ডাক্তারের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ব্রেসের খরচ কমবেশি হতে পারে।

অতিরিক্ত খরচ

ব্রেস লাগানোর সময় কিছু অতিরিক্ত খরচও হতে পারে। যেমন –

  • দাঁতের এক্স-রে করার খরচ লাগতে পারে।
  • মাসিক অ্যাডজাস্টমেন্টের জন্য কিছু ফি দিতে হতে পারে।
  • ব্রেস খোলার পরে রিটেইনার ব্যবহারের খরচও এর সাথে যোগ হতে পারে।

এসব অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিলে আপনার জন্য সুবিধা হবে।

পেমেন্টের নিয়মাবলী

অনেক ডেন্টাল ক্লিনিকে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার সুযোগ থাকে। যেমন – টেক ডেন্টাল -এ আপনি ২৫,০০০ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাকি টাকা মাসিক ৬,০০০ টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। টেক ডেন্টাল এর মত অন্যান্য ক্লিনিকেও এই সুবিধা পাওয়া যায়। আবার, ফরচুন ডেন্টাল -এ ৩০% অগ্রিম দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ আছে।

ব্রেস লাগানোর সুবিধা

দাঁতে ব্রেস লাগানোর অনেক সুবিধা রয়েছে। শুধু দাঁত সোজা করাই নয়, এটি আপনার মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে। আসুন, ব্রেস লাগানোর কিছু সুবিধা জেনে নেই:

  • সুন্দর হাসি: ব্রেস লাগানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দাঁত সোজা করা, যা আপনার হাসিকে সুন্দর করে তোলে।
  • ভালো কামড়: ব্রেস আপনার দাঁতের সঠিক অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করে, যা খাবার চিবানোর জন্য খুব দরকারি।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: সুন্দর দাঁতের হাসি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনাকে আরও স্বচ্ছন্দ করে তোলে।

অনেকে আছেন যারা ব্রেস লাগাতে চান না, তারা কম খরচে পোরসেলিন ভিনিয়ার এর কথা চিন্তা করতে পারেন।

ব্রেস লাগানোর সঠিক সময়

দাঁতে ব্রেস লাগানোর জন্য সঠিক সময় কোনটি, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। সাধারণত, ১০-১৪ বছর বয়স ব্রেস লাগানোর জন্য ভালো সময়। তবে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও ব্রেস বেশ উপযোগী। কারণ, দাঁত সোজা করার জন্য বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিছু জরুরি পরামর্শ

দাঁতে ব্রেস লাগানোর আগে কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার।

  • খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে ডেন্টিস্টের সাথে কথা বলুন। আপনার দাঁতের অবস্থা দেখে তিনি সঠিক খরচ বলতে পারবেন।
  • বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে খরচের তালিকা নিন এবং তুলনা করুন। এতে আপনি সবচেয়ে ভালো অফারটি বেছে নিতে পারবেন।
  • ডাক্তারের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিকের পরিবেশ সম্পর্কে জেনে নিন। ভালো মানের ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো সবসময় ভালো।

দাঁতে ব্রেস নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

দাঁতে ব্রেস লাগানো নিয়ে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

ব্রেস লাগানোর সময় কি ব্যথা লাগে?

ব্রেস লাগানোর সময় তেমন ব্যথা লাগে না। তবে, ব্রেস লাগানোর পরে কয়েকদিন দাঁতে একটু চাপ অনুভব হতে পারে। এটা স্বাভাবিক এবং কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।

ব্রেস কতদিন পর পর পরিবর্তন করতে হয়?

ব্রেস পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না, তবে প্রতি মাসে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে ব্রেস অ্যাডজাস্ট করতে হয়। এই সময় ডেন্টিস্ট ব্রেসের তারগুলো পরিবর্তন করে দাঁতগুলোকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসেন।

ব্রেস খোলার পরে কি দাঁত আবার বাঁকা হয়ে যেতে পারে?

ব্রেস খোলার পরে দাঁত বাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই ডেন্টিস্ট রিটেইনার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। রিটেইনার দাঁতগুলোকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ব্রেস লাগানোর সময় কি খাবার খাওয়াতে কোনো অসুবিধা হয়?

ব্রেস লাগানোর প্রথম কয়েকদিন খাবার খেতে একটু অসুবিধা হতে পারে। এ সময় নরম খাবার খাওয়া ভালো। ধীরে ধীরে আপনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারবেন। তবে, কিছু খাবার যেমন – চুইংগাম বা শক্ত ক্যান্ডি এড়িয়ে যাওয়া ভালো, কারণ এগুলো ব্রেসের ক্ষতি করতে পারে।

ব্রেস লাগানোর পরে দাঁতের যত্ন কিভাবে নিতে হয়?

ব্রেস লাগানোর পরে দাঁতের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত ব্রাশ করতে হবে এবং ডেন্টিস্টের দেওয়া নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। এছাড়াও, ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার করতে হবে।

শেষ কথা

দাঁতে ব্রেস লাগানোর খরচ নিয়ে একটা স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। সুন্দর হাসি পাওয়ার জন্য ব্রেস একটি দারুণ উপায়। তাই, দেরি না করে আজই একজন ভালো ডেন্টিস্টের সাথে কথা বলুন এবং আপনার হাসিকে আরও সুন্দর করে তুলুন। আপনার দাঁতের জন্য কোন ধরনের ব্রেস সবচেয়ে ভালো হবে এবং এর আনুমানিক খরচ কত হতে পারে, সেটি ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিয়ে জেনে নিতে পারেন।